October 6, 2019

কাকরাইলে নিজ কার্যালয়েই থাকতেন সম্রাট।

যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট দুটি বিয়ে করেছিলেন এবং ঢাকার মহাখালীতে দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে থাকতেন। তবে গত ২ বছর ধরে তিনি সেখানে যেতেন না। এ সময় তিনি কাকরাইলের ভূঁইয়া ম্যানশনে নিজ কার্যালয়ে থাকতেন বলে সম্রাটের পারিবারিক একটি সূত্র থেকে জানা গেছে। রোববার ভোরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জুশ্রীপুর গ্রাম থেকে সম্রাট এবং তার সহযোগী আরমানক গ্রেফতার করে র‍্যাব। এরপর ঢাকায় নিয়ে এসে দুপুরে সম্রাটকে নিয়ে তার কাকরাইল কার্যালয়ে অভিযান শুরু করে র‍্যাব। ওই সূত্র জানিয়েছে, সম্রাটের দুই স্ত্রী। প্রথম স্ত্রী বাড্ডায় থাকেন। ওই ঘরে সম্রাটের এক মেয়ে। তিনি পড়াশোনা শেষ করেছেন। সম্রাটের দ্বিতীয় স্ত্রী শারমিন চৌধুরী মহাখালীর ডিওএইচএসে থাকেন। দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে সম্রাটের এক ছেলে। তিনি মালয়েশিয়ায় একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। মহাখালীতে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাসাতেই থাকতেই সম্রাট। যদিও গত দুই বছর ধরে তিনি কাকরাইলে নিজ কার্যালয়েই থাকতেন। বাসায় না গেলেও পরিবারের সব খরচ দিতেন সম্রাট। সিঙ্গাপুরে সম্রাটের বিদেশি একজন স্ত্রী আছে বলেও তার পরিবারের একটি সূত্র দাবি করলেও ওই স্ত্রীর ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জানা গেছে, সম্রাটদের গ্রামের বাড়ি ফেনীর পরশুরামে। সম্রাটরা তিন ভাই। এক ভাই সম্রাটের ক্যাসিনো ব্যবসা দেখাশোনা করতেন। আরেক ভাই ছাত্রলীগের রাজনীতি করেন। গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় শুরু হওয়া ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের শুরু থেকেই নজরদারিতে ছিলেন সম্রাট। এ সময়ের মধ্যে তিনি বিদেশ পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় তিনি দেশ ছাড়তে পারেননি। র‍্যাব জানিয়েছে, ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরুর দুই দিন পর ঢাকা ছাড়েন সম্রাট। রাজধানীর ‘ক্যাসিনো সম্রাট’ হিসেবে জুয়াড়িদের কাছে বেশ পরিচিত ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট। ঢাকায় অবৈধভাবে ক্যাসিনো ও জুয়ার বোর্ড পরিচালনার অভিযোগে এতদিন পুলিশের নজরদারিতে ছিলেন বলে জানিয়েছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগরীতে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, মাদক ব্যবসা ও অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসাসহ আরও অনেক অভিযোগ রয়েছে। রাজধানীতে ক্লাব ব্যবসার আড়ালে অবৈধ ক্যাসিনো পরিচালনার অভিযোগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া র‌্যাবের অভিযানে আটক হন যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। এরপর ধরা পড়েন আরেক যুবলীগ নেতা জি কে শামীম। এ দু’জনই অবৈধ আয়ের ভাগ দিতেন সম্রাটকে। তারা গ্রেফতার হওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাটের অবৈধ ক্যাসিনো সাম্রাজ্য নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন। এতে বেকায়দায় পড়েন সম্রাট। কিন্তু সম্রাট ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। অভিযান শুরুর প্রথম তিন দিন দৃশ্যমান ছিলেন তিনি। ফোনও ধরতেন। কয়েক দিন কাকরাইলের ভূঁইয়া ম্যানশনে নিজের ব্যক্তিগত কার্যালয়েও অবস্থান করেন সম্রাট। ভূঁইয়া ম্যানশনের অবস্থানকালে শতাধিক যুবক তাকে পাহারা দিয়ে রাখছিলেন। সেখান থেকে অন্য স্থানে পালিয়ে যান সম্রাট। এরপর তার অবস্থান নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে গত ২২ সেপ্টেম্বর সম্রাটের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞাসংক্রান্ত একটি আদেশ দেশের বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরে পাঠানো হয়। তার ব্যাংক হিসাবও তলব করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে চিঠি দিয়ে জানতে চাওয়া হয়, সম্রাটের ব্যাংক হিসাবে কী পরিমাণ টাকা লেনদেন হয়েছে, তার হিসাব দিতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *