May 23, 2020

ঈদ উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জে কর্মরত সাংবাদিক ও ৪থানা পুলিশের জন্য ৩০ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন সেলিম ওসমান।

নারায়ণগঞ্জের করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় ঘরবন্দী কর্মহীন মানুষদের নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান সহ বিভিন্য কর্মসূচি করে যাচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ -৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। এবার ঈদ উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জে কর্মরত সাংবাদিক ও ৪ থানা পুলিশের জন্য ৩০ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন তিনি।

এ লক্ষে শুক্রবার (২৩ মে) নারায়ণগঞ্জের সাংবাদিক ও ৪টি থানা এলাকার পুলিশ এবং শিল্প পুলিশের সাথে পৃথক দুটি মতবিনিময় সভা করেছেন সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান।

এ সময় তিনি তাঁর সহধর্মিনী মিসেস নাসরিন ওসমানের ব্যক্তিগত তহবিল ও বিকেএমই এর পক্ষ থেকে সাংবাদিক ও পুলিশ প্রশাসনের হাতে ঈদ উপলক্ষ্যে মোট ৩০ লাখ টাকা তুলে দিয়েছেন।

এর আগে এমপি সেলিম ওসমানের পক্ষ থেকে ২০ লক্ষ্য টাকা দিয়ে নারায়ণগঞ্জের করোনা হাসপাতালের ডাক্তারদের থাকা খাওয়া সহ স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সহায়তা করেছিলেন। ডাক্তারদের পর এবার সাংবাদিক এবং পুলিশ সদস্যদের তিনি অনুদান প্রদান করেন।

মত বিনিময়কালে এমপি সেলিম ওসমান বলেন, করোনা রোগের চিকিৎসা নেই। অন্যান্য দেশ গুলো থেকে দেখে দেখে আমরা যেমনি পারছি সেই ভাবে করোনা মোকাবেলার চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমরা ৩০০ শয্যা হাসপাতাল পরিচালনা করছি। আমরা চেষ্টা করছি সেখানে ৩০০ রোগীই যেন ভর্তি করা যায়। হাসপাতালের সামনে একটি মার্কেট রয়েছে। কারো সমালোচনা করছি না। পরিবেশন সুন্দর রাখার একটি বিষয় আছে। আমি সাংবাদিকদের মাধ্যমে অনুরোধ রাখবো যাতে দোকান গুলো না থাকে। কারন সেখানেও নিরাপত্তার একটি বিষয় আছে। এখন পর্যন্ত যেহেতু করোনার কোন ওষুধ বের হয়নি তাই মানুষ কি করলে ভাল থাকতে পারবে সেগুলো আপনারা সাংবাদিকরা অভিজ্ঞ মানুষের সাথে কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছে পৌছে দিতে পারতেন। অনেকে ঘরোয়া চিকিৎসা নিয়েও সুস্থ্য হয়েছে। পুলিশ সদস্যরা সেচ্ছায় কোয়ারিন্টিনে গিয়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ্য হয়েছেন। এগুলো আপনারা তুলে ধরতে পারেন খুব ভাল ভাবে।

তিনি আরো বলেন, করোনার শুরুর দিকে আমিও বাসা থেকে বের হইনি। যখন দেখলাম আমাদের ডিসি সিভিল সার্জন সহ গুরুত্বপূর্ন ব্যক্তিরা আক্রান্ত হয়ে পড়েছে তখন আমি ঘর থেকে বের হয়েছি। এর থেকে আমি আর বসে থাকিনি। আমি যতটুকুই করতে পেরেছি তা করতে আমাকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কাউন্সিলর, চেয়ারম্যান মেম্বাররা রাজনীতির উর্ধে এসে সহযোগীতা করেছেন।

সেলিম ওসমান বলেন, কাজ করতে গিয়ে সব থেকে বেশি আক্রান্ত হয়েছে সাংবাদিক ও পুলিশ। যদি ডাক্তারদের সার্পোট পর্যাপ্ত না পাওয়া যায় তবে আমাদের করনীয় কি হতে পারে। এগুলো আপনাদের মাধ্যমে সুচিন্তিত মতামতের প্রয়োজন। আল্লাহ মানুষকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে ১০০ বছরে একবার মহামারি দেন। আমি সকলের কাছে হাত জোড় করে অনুরোধ করবো সবার মাঝে যেন ইমান ফিরে আসে। আগে এতো সাংবাদিক বা সংবাদপত্র ছিল না। এখন জনসংখ্যা বেড়েছে তাই সংবাদপত্র সাংবাদিক বেড়েছে প্রতিযোগীতা বেড়েছে। নারায়ণগঞ্জের একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল নিউজ নারায়ণগঞ্জ এর কাছে আমি কৃতজ্ঞ। তাদের মাধ্যমে আমি সকল খবর জানতে পারি। কিন্তু আপনাদের মাঝ থেকে যদি কেউ ঝড়ে যায় সেটাকে যদি আপনারা তুলে ধরতে না পারেন তাহলে সেটা খুব দু:খজনক।

তিনি বলেন, আমরা সাংবাদিকদের জন্য অনেক কিছু করতে পারতাম। কিন্তু কোন আহবান ছিল না। অনেক জায়গা আছে যেগুলো ব্যবসায়ীরা নিয়ে নিচ্ছে। বন্দরে নদীর পাড়ে একটি জায়গা আছে সেখানে আমরা সাংবাদিকদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করতে পারতাম। কিন্তু কোন আহবান ছিলনা। হয়তো এই দায়িত্বটা আমারই ছিলো আমি করতে পারিনি। আমাদের শীতলক্ষ্যা নদীতে নাসিম ওসমান সেতু, খানপুর হাসপাতালকে মেডিকেল কলেজ, বন্দর শান্তিরচরে নীট পল্লী সব কিছুর অনুমদোন পেয়েও থমকে আছে। কারন এগুলো নিয়ে কোন আলোচনা নাই। আপনাদের এগুলো লেখনির মাধ্যমে তুলে ধরতে হবে। আপনারা সাংবাদিকরা নিজেদের মাঝে বিভক্তি না রেখে আপনার একত্রিত হোন। আমরা একটা সুন্দর নারায়ণগঞ্জ গড়ে তুলবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *