May 22, 2019

বালিশ ক্রয়ে দুর্নীতি ! খালেদা জিয়ার সরকার বনাম বর্তমান প্রেক্ষাপট !!

বিশ্বব্যাপী বালিশের দাম যেমনই থাকুক না কেনো, বাংলাদেশে বালিশ ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রথম রেকর্ডটি করেছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ১৯৯১ সালে প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় আসার পরে তার জন্য প্রতিটি ৭৮হাজার টাকা মূল্যের ৬টি বালিশ কেনা হয়েছিল। গণপূর্ত বিভাগের নথিপত্রে দেখা যায় ১৯৯১ সালের ২৯ মার্চ, বেগম খালেদা জিয়ার ক্যান্টনমেন্টের মঈনুল হোসেন সড়কের বাসা সংস্কার এবং নতুন আসবাবপত্র সজ্জিতকরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঠানো এক পরিপত্রে (স্বারক নং ৬/৯১/ই/প্র) বলা হয়, ‘যেহেতু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন ব্যবহার করবেন না, সে কারণেই ৬ নং শহীদ মঈনুল হোসেন সড়কের বাসভবনের সংস্কার এবং পূনঃবিন্যাস প্রয়োজন।নিম্নের তালিকা অনুযায়ী, মালামাল দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন সজ্জিতকরণ প্রয়োজন;’ তালিকায় মোট ১২১টি আইটেম ছিল, এর মধ্যে কুশন, বালিশ, ম্যাট্রেস, চাদর, খাট ছিলো অন্যতম। এই পণ্যগুলো কেনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কয়েকটি চিঠি চালাচালি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত প্রতিটি ৭৮ হাজার টাকা মূল্যে প্যারিস থেকে ৬টি বালিশ কেনা হয়েছিল। ৬টি বালিশের তৎকালীন মূল্য ছিল চার লাখ ৬৮ হাজার টাকা। এই বালিশগুলো প্যারিস থেকে ঢাকায় আনতে খরচ হয়েছিল এক লাখ ১৫ হাজার টাকা। এ নিয়ে অডিট আপত্তি করেছিল ১৯৯২ সালে। তখন আপত্তির জবাবে বলা হয়েছিল যে, প্রধানমন্ত্রীর জরুরি প্রয়োজনের কারণে কার্গো বিমানে বালিশ আনতে হয়েছে। বেগম জিয়া অবশ্য দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হয়ে আগের রেকর্ড ভেঙে ফেলেন। দলিলপত্রে দেখা যায়, ২০০২ সালে পররাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়ার জন্য ইতালী থেকে ৬টি কুশন পিলো কেনা হয়। যার প্রতিটির মূল্য ছিলো ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা। ৬টি কুশন পিলোর মূল্য পরে প্রায় আট লাখ টাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *