August 19, 2020

ভবিষ্যতে যাতে কোনো অবকাঠামো আর নদীগর্ভে বিলীন না হয়, এখন থেকে ভারী অবকাঠামো বুঝেশুনে নির্মাণের নির্দেশ।

বন্যায় পদ্মা নদীর ভাঙনে চাঁদপুরে প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত রাজরাজেশ্বর ওমর আলী হাই স্কুল নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার বিষয়টি নজরে এসেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। ভবিষ্যতে যাতে কোনো অবকাঠামো আর নদীগর্ভে বিলীন না হয়, সে জন্য এখন থেকে নদীপারের আশপাশে স্কুল, কলেজ, মাদরাসাসহ ভারী অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে বুঝেশুনে নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় তিনি এই নির্দেশ দেন। একনেক বৈঠকে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন একনেক চেয়ারপারসন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনা বলেন, নদীর চরিত্র বুঝে এরপর ঘরবাড়ি নির্মাণ করতে হবে। সব জায়গায় সব কিছু নির্মাণ করা ঠিক নয়। নদীর পারে এমনভাবে অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে, যাতে নদীভাঙনের সময় তাড়াতাড়ি তা সরিয়ে অন্যত্র নেওয়া যায়।

বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি বলেন, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমরা যে নদীর পারে ঘরবাড়ি বানাই, তখন কি আমরা চিন্তা করি কোথায় বানাচ্ছি? বানিয়ে চলে গেলেন, নদী ভেঙে নিয়ে গেল। এটা ঠিক না। নদীর চরিত্র বুঝতে হবে। জেনেশুনে অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে। আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সব জায়গায় সব কিছু নির্মাণ করা যাবে না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, মুন্সীগঞ্জের লোকজন পদ্মা নদীর কিনারায় সরিয়ে নেওয়ার যোগ্য করে টিনের একতলা, দোতলা করে খুব সুন্দর সুন্দর বাড়িঘর তৈরি করত। ভাঙন শুরু হলে তারা নিরাপদ জায়গায় বাড়িঘর তুলে নিয়ে আরেক জায়গায় বসিয়ে দিতে পারত।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন, আপনারা একটি মডেল তৈরি করেন। স্কুল, মসজিদ, মাদরাসা, কলেজ যেগুলো হুমকির সম্মুখীন, সেগুলো আমরা যেন তাড়াতাড়ি সরিয়ে নিতে পারি। যাতে করে গোটা বিল্ডিং না খেয়ে ফেলে।’

এদিকে গতকালের একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী জানতে চান, সড়ক নির্মাণের একটি প্রকল্পে কেন বাংলো নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিল। সড়কের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয় এরকম দুটি বাংলো নির্মাণের প্রস্তাব নিজ হাতে কেটে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামী দিনে এ রকম বিচ্ছিন্নভাবে ডাকবাংলো নির্মাণ না করে একসঙ্গে সারা দেশে বাংলো নির্মাণের কথা বলেন তিনি।

‘বারৈয়ারহাট-হেঁয়াকো-রামগড় সড়ক প্রশস্তকরণ’ প্রকল্প এবং ‘খুলনা সড়ক জোনের আওতাধীন মহাসড়কে সেতু নির্মাণ’ প্রকল্প পরিদর্শনের জন্য বাংলো দুটি নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অপ্রয়োজনীয় বাংলো নির্মাণের প্রস্তাব বাতিল করে দেওয়ায় দেশের প্রায় ছয় কোটি টাকা সাশ্রয় হলো।

পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী বাংলোর বিষয়ে বলেছেন, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের সারা দেশে অনেক বাংলো রয়েছে। কাজেই কোনো প্রকল্পের আওতায় নতুন করে বাংলো নির্মাণের কোনো প্রয়োজন নেই। যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হওয়ার ফলে প্রকল্প এলাকায় কর্মকর্তাদের অস্থায়ী অবস্থানের প্রয়োজন নেই। দিনে গিয়ে পরিদর্শন শেষে কর্মস্থলে ফেরা সম্ভব। ব্রিটিশ আমলে বাংলো বানানো হতো। কারণ তখন যোগাযোগ উন্নত ছিল না।

গতকালের একনেক সভায় আরো কিছু অনুশাসন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন সড়কে টোল আদায়। নির্মাণ ব্যয়ের খরচের কথা বিবেচনায় সামান্য হলেও টোল আদায় করতে হবে। তবে টোল আদায় প্রক্রিয়ায় যাতে সড়কে যানজট সৃষ্টি না হয়, সে ব্যাপারেও সতর্ক থাকতে হবে।

বন্যা প্রতিরোধে খাল খননেরও নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া বাঁধ রক্ষায় স্লুইস গেট নির্মাণ বন্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, সারা দেশে কতগুলো এ ধরনের গেট আছে তার হিসাব তুলে ধরবেন তাঁরা।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে নির্দেশনা এসেছে সড়কে টোল বসানোর। টোল সংযোজিত হবে। আমাদের রাস্তা বানাতে হবে। রাস্তা রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে। মেরামত করতে হবে। মেরামত না করলে আপনারা সবাই বিরক্ত হন। সুতরাং টোল করে সামান্য টাকা চাঁদা দিয়ে যাবেন। এটা উনি (প্রধানমন্ত্রী) মনে করেন, এটা বোধ হয় ফ্রি হওয়া ঠিক নয়। আমি তাঁর সাথে শতভাগ একমত।’

একনেকে গতকাল মোট সাতটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি নতুন প্রকল্প। একটি সংশোধিত প্রকল্প। এসব প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে তিন হাজার ৪৬২ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব ব্যয় দুই হাজার ৬২০ কোটি টাকা। বাকি অর্থের মধ্যে বিশ্বব্যাংকের অনুদান ২৬১ কোটি টাকা এবং রয়েছে ভারতীয় ঋণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *