January 19, 2021

টাঙ্গাইলে মেয়ের জামাইকে সঙ্গে নিয়ে স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমিককে খুন করেন প্রবাসী

এম শহিদুল ইসলাম, টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলে স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমিক নুরুল ইসলামকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে গেলো শনিবার ঘোড়ার দৌড় শেষ করে আগের থেকেই ওৎ পেতে ছিলেন জামাল হোসেন। সঙ্গে নিয়েছিলেন মেয়ের জামাই ফজর আলী এবং অটোচালক শাহ আলমকে।

নুরুল ইসলামের অপেক্ষায় সন্ধ্যা পর্যন্ত রাস্তার পাশেই বসে ছিলেন তারা। পরে নুরুল ইসলাম ঘোড়া দৌড় শেষে বাড়ি ফেরার পথে দেওজানা বাজারে পৌঁছলেই তাকে জোরপূর্বক শাহআলমের ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় তুলে নেয়। ওই অটোরিকশাতে মেয়ের জামাই ফজর আলী হাত-পা চেপে ধরে এবং শ্বশুর জামাল হোসেন শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তারা নুরুল ইসলামের লাশ সাগরদিঘী-গারোবাজার পাকা সড়কের পাশে লক্ষ্মীন্দর এলাকায় জঙ্গলে ফেলে যায়।

এমনই একটি লোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার লক্ষ্মীন্দর এলাকায়।

নিখোঁজের তিন দিন পর গতকাল সোমবার রাতে নুরুল ইসলাম (৪৫) নামে ওই ঘোড়াগাড়ি চালকের মরদেহ উদ্ধার করে ঘাটাইল থানার পুলিশ।

পরে এ ঘটনায় রাতেই আটক করা হয় উপজেলার সুন্দইল গ্রামের জামাল হোসেন (৪৫), তার মেয়ের জামাই দেওজানা গ্রামের ফজর আলী (২৪) এবং একই গ্রামের অটোচালক শাহ আলমকে (২২)। তারা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে ও পরে মঙ্গলবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

নিহত নুরুল ইসলাম উপজেলার সংগ্রামপুর ইউনিয়নের ছনখোলা গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।

পুলিশ জানায়, শনিবার (১৬ জানুয়ারি) উপজেলায় কুড়ালিয়া বাইদ এলাকায় ঘোড়দৌড় দেখতে গিয়ে নিখোঁজ হয় নুরুল। পরদিন তার ছেলে আনিছুর রহমান থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। ঘটনার তদন্ত নামে পুলিশ। পরে উপজেলার সুন্দইল গ্রামের জামাল হোসেন (৪৫), তার মেয়ের জামাই দেওজানা গ্রামের ফজর আলী (২৪) এবং একই গ্রামের অটোচালক শাহ আলমকে (২২) আটক করা হয়।

আটককৃতদের ভাষ্যমতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসাদুল ইসলাম জানান, গেলো শনিবার সন্ধ্যায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আসামিরা নুরুল ইসলামকে দেওজানা বাজার থেকে জোড়পূর্বক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় তুলে নেয়। পরে তারা আটোতেই শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তারা নুরুল ইসলামের লাশ উপজেলার লক্ষ্মীন্দর এলাকায় সাগরদিঘী-গারোবাজার পাকা সড়কের পাশে জঙ্গলে ফেলে যায়। পরে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গতকাল সোমবার রাতে তার হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করা হয়।

এলাকাবাসী জানায়, নিহত নুরুল ইসলাম ও জামাল হোসেনের সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। জামাল হোসেন গ্রিস প্রবাসী। তার স্ত্রীর সঙ্গে নুরুল ইসলামের পরকীয়ার সম্পর্ক ছিলো। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় বেশ আলোচনা ও সমালোচনাও চলছিলো। স্ত্রীর পরকীয়ার এমন কাণ্ড মেনে নিতে পারেননি তিনি। সংসারে এ নিয়ে প্রায়ই ঝগড়া চলতো। এ কারণেই এ ঘটনা ঘটতে পারে।

এ বিষয়ে ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম আরটিভি নিউজকে জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। তবে কি কারণে খুন করা হয়েছে তা তদন্তের পর জানা যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *