November 6, 2019

কক্সবাজার সৈকতে দখলের মহোৎসব চলছে

এইচ এম আমান কক্সবাজার : কক্সবাজারের সুগন্ধা সৈকতে দখলের মহোৎসব চলছে। সৈকতের উত্তর পাশে স্বেচ্ছাসেবক লীগ দক্ষিণ পাশে যুবদলের নেতৃত্বে দখলকার্য অব্যাহত রয়েছে। দখল ও দূষণে বিপর্যস্ত কক্সবাজার সৈকতের পরিবেশ। শুটকির দোকান, মাছ ভাজা বিক্রির দোকানসহ হরেক রকম অবৈধ স্থাপনায় যেনো দখলের মহোৎসব চলছে সৈকতে। সরকারি ভূমিতে অনুমতি বিহীন প্রতিনিয়ত গড়ে উঠছে অবৈধ স্থাপনা। কয়েক দফা উচ্ছেদের মাইকিং করার পরও থেমে নেই দখলের হিড়িক। অজ্ঞাত কারণে বারংবার ঘোষণা দিয়েও উচ্ছেদ করতে পারেনি এসব অবৈধ স্থাপনা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান, কলাতলীর সুগন্ধা পয়েন্টের রাস্তার উত্তর পাশে রয়েছে রাজনৈতিক পরিচয়ে দখল করে বসানো সারিবদ্ধ দোকান। এখানে রয়েছে শুঁটকি, রেস্টুরেন্ট, ফিশ ফ্রাইয়ের দোকান, ফার্মেসি, ট্যুরিজম অফিসসহ নানা ধরনের দোকান। আর উত্তর পাশের অবৈধ স্থাপনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন ২ স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা। যারা সুগন্ধা বিচের বৃহত্তর শুটকি, রেস্তোরা, ফিস ফ্রাই ব্যবসায়ীদের নিয়ে সম্প্রতি একটি সমিতির জন্ম দিয়েছেন। এই সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন কক্সবাজার শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আবদুর রহমান। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক জসিম উদ্দিন। মূলত এই দুজনের নেতৃত্বে সুগন্ধা পয়েন্টের উত্তর সারির সরকারি শত কোটি টাকার জমি দখলে রয়েছে। তাদের সাথে যারা দখলবাজদের তালিকায় রয়েছে মহেশখালীর মুফিজ, কলাতলীর নুর মোহাম্মদ, রবিন, তার বড় ভাই নাছির, রাসেল, মো. হানিফ, আরিফ, বাবু, পরিবেশ অধিদপ্তরের অফিস সহকারী আলম, সোহেল, সৈকত, আল্লাহর দান হোটেলের মালিক মনির, নয়ন, কিবরিয়া, ইয়াহিয়া, ভারুয়াখালী খালেক, মো. মেহেদী, হালিম, হামিদ সওদাগর, ছোট হামিদ, সাদেক, আবদøøল্লাহ বিদ্যুৎ, আব্দুল সফুর, আব্দুল আলীম ও সাহেদ। অন্যদিকে সুগন্ধা বিচের উত্তর পাশের পাশাপাশি দক্ষিণ পাশেও দখলকা- শুরু হয়েছে সম্প্রতি। এ সিন্ডিকেটে রয়েছে শহর যুবদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. জয়নাল আবেদীন, নাজিম উদ্দিন নাজু, আচার ব্যবসায়ী নাছির, কলাতলীর আবদুল্লাহ আল মামুন ও মিঠুসহ আরো কয়েকজন। এ নিয়ে কক্সবাজার শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আবদুর রহমান বলেন, সরকারি জমি দীর্ঘদিন ধরে এস.আলম কোম্পানির দখলে ছিলো। পরে দীর্ঘ সময় উচ্চ আদালতে মামলা পরিচালনা করার পর পুনরায় সরকারি কোষাগারে চলে আসে। কিন্তু বর্তমানে পরিত্যক্ত থাকায় দলীয় ছেলেরা দোকান নির্মাণ করে জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করছে। তবে সরকারের উন্নয়নের প্রয়োজন হলে ছেড়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতির কথাও জানান এই নেতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *