Contact us :

+8801911702463

E-mail :

dusos.tv@gmail.com

সবচেয়ে বেশি অবৈধ বিদেশি শ্রমিক কাজ করে পোশাক খাতে।

দেশে দিন দিন বাড়ে চলছে অবৈধ বিদেশির সংখ্যা। রোহিঙ্গা ও বিহারি ছাড়া একটি গোয়েন্দা সংস্থার হিসাবে অবৈধ বিদেশির সংখ্যা মাত্র ২১ হাজার। কিন্তু বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা বলছে, শুধু বিদেশি অবৈধ শ্রমিকের সংখ্যা বাংলাদেশে ১০ লাখ।

একাধিক বেসরকারি সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, শরণার্থী রোহিঙ্গা, বিহারি এবং অবৈধ বিদেশি মিলিয়ে এ সংখ্যা হবে ৩০ লাখের বেশি। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, নজরদারি অপেক্ষাকৃত কম থাকায় বিদেশিরা পর্যটন ভিসায় এসে পাসপোর্ট ছিঁড়ে ফেলে থেকে যাচ্ছেন বাংলাদেশে। অন্যদিকে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার পরিসংখ্যানে এত ফারাক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। তারা বলছেন, অভিবাসীদের সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলে জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মধ্যে পড়তে পারে। দ্রুততর সময়ের মধ্যে অভিবাসী নিয়ে একটি বিশেষায়িত সংস্থা গঠন করার ব্যাপারে মত দিয়েছেন তারা।

অভিবাসন নিয়ে কাজ করেন এমন অনেক বিশ্লেষক বলছেন, দীর্ঘদিন যাবৎ বিহারিদের যন্ত্রণা সহ্য করছে রাষ্ট্র। আবার যোগ হয়েছে বিশাল রোহিঙ্গাদের বহর। অবৈধ বিদেশির সংখ্যা বাড়তে থাকায় চাপ পড়ছে দেশের অর্থনীতিতে। অবৈধ বিদেশিরা দেশে অবস্থান করে নানা অপকর্মে জড়াচ্ছেন। এর বাইরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অবৈধভাবে কাজ করায় বড় অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রাষ্ট্র।

অপরাধবিজ্ঞানী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন বলেন, আমি যখন সুইজারল্যান্ডে ছিলাম তখন তিন মাস অন্তর অন্তর সেখানকার ইমিগ্রেশন বিভাগ আমার কাছে চিঠি পাঠাত এবং আমাকে তাদের অফিসে ডাকত। বিদেশিদের বিষয়টি মনিটরিংয়ের জন্য আমাদের দেশেও বিশেষায়িত একটি সংস্থা প্রয়োজন। যারা কেবল এ কাজটিই করবে। নয় তো এর দায় রাষ্ট্রকেই নিতে হবে।

একাধিক সূত্রথেকে জানা গেছে, দেশে ৩০ লাখ বিদেশি বসবাস করছে। এর মধ্যে ১০ লাখের বেশি বিদেশি শ্রমিক অবৈধভাবে কাজ করছেন বাংলাদেশে। সবচেয়ে বেশি বিদেশি শ্রমিক কাজ করেন পোশাক খাতে। যদিও একটি গোয়েন্দা সংস্থার হিসাব বলছে, অবৈধভাবে দেশে অবস্থান করা বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা মাত্র ২০ হাজার ৭১৩ জন। বৈধভাবে দেশে অবস্থান করছেন প্রায় ৬১ হাজার। তবে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ২০১৫ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৫ লাখ ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশে কাজ করেন। তারা তাদের দেশে এক বছরে ৩ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছেন, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার সমান।

এ ছাড়া ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি গবেষণা সংস্থা পিউ রিসার্চ সেন্টার তাদের গবেষণায় উল্লেখ করেছে, বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকেরা বৈধ পথে বছরে প্রায় ২০০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় নিয়ে যান, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় সাড়ে ১৬ হাজার কোটি টাকার বেশি। রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন খাতে এসব বিদেশি নাগরিক কাজ করে।

অবৈধভাবে বাংলাদেশে বসবাসকারীদের মধ্যে পাকিস্তান, ভারত, নাইজেরিয়া, ঘানা, কঙ্গো, তাইওয়ান, মিয়ানমার, ফিলিপাইন, লিবিয়া, ইরাক, আফগানিস্তান, আলজেরিয়া, চীন, তানজানিয়া, আফ্রিকা, উগান্ডা ও শ্রীলঙ্কার নাগরিকরাই বেশি। সব মিলিয়ে প্রায় ৫৫টি দেশের নাগরিক বাংলাদেশে কাজ করলেও একটি গোয়েন্দা সংস্থার হিসাবে ভারতের ১০ হাজার ২২৭ জন, চীনের ৩ হাজার ৬৫২, নেপালের ১ হাজার ৫১৮, পাকিস্তানের ৪২১, শ্রীলঙ্কার ৫৩৪, রাশিয়ার ৩৪৮, দক্ষিণ কোরিয়ার ৬১০, উত্তর কোরিয়ার ৪০৬, সোমালিয়ার ১২২, যুক্তরাষ্ট্রের ৪১৫ এবং যুক্তরাজ্যের ২০৩ জন অবৈধ নাগরিক বাংলাদেশে অবস্থান করছে।

এসব দেশের বৈধ নাগরিক রয়েছে ভারতের ১০ হাজার ৪৮৩, চীনের ৬ হাজার ২৮১, নেপালের ১ হাজার ২১১ জন, পাকিস্তানের ৫১৭, রাশিয়ার ৪৪৩, শ্রীলঙ্কার ১ হাজার ৫৫৮, যুক্তরাজ্যের ২ হাজার ৬২৭ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ৪ হাজার ৪৯৬ জন।

এদিকে একাধিক শ্রমিক সংগঠনের নেতারা বলছেন, গার্মেন্ট, কম্পোজিট টেক্সটাইল মিল, ওভেন ও নিটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রি, সোয়েটার ফ্যাক্টরি, বায়িং হাউস, মার্চেন্ডাইজিং কোম্পানি মিলিয়ে প্রায় ১০ লাখ বিদেশি কাজ করেন পোশাক খাতে। যদিও অধিকাংশ অবৈধভাবেই কাজ করছেন। এ ছাড়া ফ্যাশন হাউস, খাদ্য উৎপাদন ও বিপণনকারী কোম্পানি, ফার্নিচার কোম্পানি, পোলট্রি খাদ্য উৎপাদন প্রতিষ্ঠান, চামড়াজাত প্রতিষ্ঠান এবং রিসার্চ প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন অনেক অবৈধ বিদেশি।

অবৈধ অভিবাসী নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, দেখুন, এ বিষয়টি মূলত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেখে থাকে। আটকে পড়া পাকিস্তানিদের তো পাকিস্তান নিতে চাইছে না। সিপিডি এবং অন্যান্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তথ্যের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, এ বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখব।

জানা গেছে, বিদেশি নাগরিকদের কাজের অনুমতি দেয় বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা) ও এনজিওবিষয়ক ব্যুরো। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এই অনুমতি নেওয়া হয় বিডার কাছ থেকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *