Contact us :

+8801911702463

E-mail :

dusos.tv@gmail.com

ওয়ার্কশপের আড়ালে অস্ত্রের কারখানা, ২জন গ্রেফতার।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে অস্ত্র তৈরির একটি কারখানার সন্ধান পেয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। রবিবার সকালে উপজেলার রামগতিরহাট বাজারের মিররোডের রায়হান ওয়ার্কশপে র‌্যাব-১১ এর সদস্যরা অভিযান চালিয়ে ওই অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান পায়। এ সময় কারখানা থেকে অস্ত্র তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

ওয়ার্কশপের আড়ালে কারখানার একটি কক্ষে অস্ত্র তৈরি করা হতো বলে র‌্যাব জানায়। এ ঘটনায় তিনটি একনলা বন্দুক, দুটি এলজিসহ দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার বয়ারচর এলাকার বাসিন্দা মোঃ বাবলু (৩২) এবং একই এলাকার মোঃ আনোয়ার হোসেন (৫৬)। র‌্যাব জানায়, গোপনে খবর পেয়ে র‌্যাব-১১ এর একটি দল রবিবার ভোরে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার বয়ারচর এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ বাবুল ও আনোয়ারকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যে লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে উপজেলার রামগতিরহাট বাজারের মীররোডের রায়হান ওয়ার্কশপে অভিযান চালানো হয়। ওয়ার্কশপের একটি কক্ষ অস্ত্র তৈরির কারখানা হিসেবে ব্যবহার করা হতো। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার বড়খেরী ইউনিয়নের মুন্সীরহাট এলাকার কাঠ ব্যবসায়ী সফিউল আলম সফুর ছেলে মোঃ সাইফুদ্দিন (৪২) প্রায় এক বছর আগে রামগতিরহাট বাজারের মীররোডে ঘর ভাড়া নিয়ে ওই ওয়ার্কশপের কাজ শুরু করেন। উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের টাঙ্কির বাজারে তার আরও একটি ওয়ার্কশপ রয়েছে। রামগতিরহাট বাজারের ওয়ার্কশপটি তার ভাতিজা মোঃ রায়হান (২৮) পরিচালনা করে আসছেন। রায়হানের বাবা মোঃ মাইনউদ্দিন পরিবার নিয়ে ফেনীতে বসবাস করছে। ঘটনার পর থেকে সাইফুদ্দিন ও রায়হান দুজনই পলাতক রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানান। বাজারের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ওই ওয়ার্কশপটি দিনের বেলায় বন্ধ থাকতো। তবে রাতে এর ভিতরে কাজের শব্দ পাওয়া গেলেও ঠিক কী কাজ করা হতো তা তারা অনুমান করতে পারতেন না।

এদিকে এলাকাবাসী জানান, ওয়ার্কশপ ব্যবসায়ী হলেও সাইফুদ্দিন হঠাৎ করে অঢেল সম্পত্তির মালিক বনে গেছেন। সম্প্রতি প্রায় এক কোটি ২০ লাখ টাকা দিয়ে তিনি মাছধরার একটি ট্রলার তৈরি করেছেন। যা নিয়ে এলাকার মানুষের মাঝে বিস্ময় ও কৌতুহলের সৃষ্টি হয়েছে। র‌্যাব-১১ এর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ জসিম উদ্দীন চৌধুরী জানান, তৈরি করা অস্ত্রগুলো চরের বিভিন্ন সন্ত্রাসী বাহিনীর কাছে তারা বিক্রি করতো।

তিনি বলেন, অভিযানকালে ওয়ার্কশপ থেকে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে, অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের শেষে গ্রেফতারকৃত বাবুল ও আনোয়ারকে হাতিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *