Contact us :

+8801911702463

E-mail :

dusos.tv@gmail.com

কুড়িগ্রামের সেই আরডিসি নাজিম উদ্দিন দুর্নীতি করে কোটি কোটি টাকার মালিক।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ কুড়িগ্রামে সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগ্যানকে নির্যাতনকারী আরডিসি (সিনিয়র সহকারী কমিশনার-রাজস্ব) নাজিম উদ্দিনের বাবা ছিলেন ঘরজামাই। যশোরের মণিরামপুরের দরিদ্র পরিবারের সেই নাজিম উদ্দিন এখন কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক। দিনমজুরের সন্তান নাজিম উদ্দিন নামে-বেনামে এই সম্পদের মালিক বনে গেছেন। স্ত্রী ও শ্বশুরের নামে কোটি টাকার জমি ক্রয় ও আলিশান বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে নাজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে। মনিরামপুর পৌরশহরে ৮ শতাংশ জমির উপর পাঁচতলা বিশিষ্ট অট্টালিকা নির্মাণাধীন রয়েছে। ইতোমধ্যে চারতলার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সরেজমিন ঘুরে ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।

সরেজমিন মণিরামপুরের কাশিপুর গ্রামে গেলে স্থানীয়রা জানান, মনিরামপুর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের মৃত নিছার আলীর ছেলে নাজিম উদ্দিন। পিতা নিছার আলী ঘরজামাই থাকতেন কাশিপুর গ্রামে। দরিদ্র পরিবারের সন্তান নাজিম উদ্দিন মেধাবী হওয়ায় লেখাপড়ায় স্থানীয়রা সহযোগিতা করেছেন। তার দিনমজুর বাবা জামায়াতের সমর্থক ছিলেন। প্রথমে নিছার আলী টালি ভাটার শ্রমিকের কাজও করতেন।

পিতা জামায়াত ঘরানার হলেও নানার পরিবার আওয়ামী লীগ সমর্থক হওয়ায় নাজিম উদ্দিনের উপরের উঠার সিঁড়ি পেতে অসুবিধা হয়নি। নাজিম উদ্দিন মণিরামপুর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করে মনিরামপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজে লেখাপড়া করেছেন।

একই কলেজের ছাত্রলীগের তৎকালীন আহ্বায়ক সন্দীপ ঘোষ জানান, নাজিম উদ্দিন ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে সক্রিয় ছিলেন। নাজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে কক্সবাজার, বাগেরহাট ও মাগুরার মহাম্মদপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) থাকাকালীন ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের অভিযোগসহ এক বৃদ্ধকে টেনে হিঁচড়ে মারতে মারতে নেয়ার ভিডিও ইতোমধ্যে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। অ্যাসিল্যান্ড থাকাকালীন তিনি ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি করে বিপুল অংকের অর্থ কামান বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

অনুসন্ধানে জানা যায়, মনিরামপুর পৌর এলাকার ৯৩ নম্বর গাংড়া মৌজার ৫৯৬ দাগের (আরএস চূড়ান্ত) ২৫ শতক জমির মধ্যে ১৪.৬৯ শতাংশ জমি ৪৬ লাখ টাকায় কেনেন। যা গাংড়া গ্রামের আকবর আলীর কাছ থেকে ২০১৯ সালের ১৫ জুলাই তার শ্বশুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক (অব.) আব্দুর রাজ্জাকের নামে রেজিস্ট্রি করা হয়েছে। কিন্তু জমির সেলামি তোলা হয় ৩০ লাখ টাকা।

জমির দাতা (সাবেক মালিক) আকবর আলী জানান, স্থানীয় মোসলেম উদ্দীনের মধ্যস্থতায় ৪৬ লাখ টাকায় তিনি ওই জমি বিক্রি করেছেন। যা আব্দুর রাজ্জাকের জামাই ম্যাজিস্ট্রেট নাজিম উদ্দিন কিনেছেন। কিন্তু দলিল করা হয় নাজিম উদ্দিনের শ্বশুর আব্দুর রাজ্জাকের নামে। মনিরামপুর ৯৪ নম্বর মৌজায় ৮৩ খতিয়ানের ১৩২ দাগের (আর.এস চূড়ান্ত) ৩২.২৫ শতকের মধ্যে ৮ শতক জমি ১৩ লাখ টাকায় কেনা হয়। যা উপজেলার কাজির গ্রাম মো. মোকলেছুর রহমানের কাছ থেকে ৬ শতক এবং তার স্ত্রী মোছা. নাজমুন নাহার রুপার কাছ থেকে ২ শতক সর্বমোট ৮ শতক জমি নাজিম উদ্দীনের স্ত্রী সাবরিনা সুলতানার নামে ২০১৮ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি রেজিস্ট্রি করা হয়েছে।

মজার ব্যাপার হচ্ছে রেজিস্ট্রিকৃত জমি নাজিম উদ্দিনের স্ত্রী সাবরিনা সুলতানার নামে হলেও সেখানে স্বামীর নাম না দিয়ে বাবা (নাজিম উদ্দিনের শ্বশুর) আব্দুর রাজ্জাকের নাম দেয়া হয়েছে। এই জমির উপর নির্মাণ করা হচ্ছে পাঁচতলা বিশিষ্ট বিশাল অট্টালিকা। ইতোমধ্যে যার চারতলার কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

ভবন নির্মাণে কর্মরত শ্রমিক লিটন হোসেন জানান, গত একবছর ধরে বিশাল অট্টালিকা নির্মাণের কাজ করছেন। ভবন নির্মাণে জনৈক শহিদুল ইসলাম শহিদ নামের একব্যক্তি কন্ট্রাক্ট নিয়েছেন। লিটন জানান, ভবন মাস্টারের জামাই (আব্দুর রাজ্জাক) নাজিম উদ্দীন নির্মাণ করছেন। আতিয়ার রহমান নামের প্রধান রাজমিস্ত্রী জানান, এ পর্যন্ত আনুমানিক দেড় কোটি টাকা খরচ হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে নাজিম উদ্দিন দাবি করেছেন, তার শ্বশুর পেনশনের টাকা দিয়ে গাংড়া মৌজায় জমি কিনেছেন। আর শ্বশুরের কিনে দেয়া স্ত্রীর সাবরিনা সুলতানার নামে ৮ শতক জমির উপর ভবনটি প্রবাসী শ্যালিকা নির্মাণ করছেন। আসলে তার কিছুই নেই।

নাজিম উদ্দিনের কথা সত্যতা মেলেনি মনিরামপুর উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিসের তথ্যে। ওই অফিস সূত্র জানায়, ২০১১ সালের ১ মার্চ অবসরে যান নাজিম উদ্দিনের শ্বশুর আব্দুর রাজ্জাক। অবসরের ৪ দিন পর পেনশনের ৮ লাখ ১৭ হাজার ৬শ’ টাকা উত্তোলন করেছেন তিনি। জনমনে প্রশ্ন উঠেছে পেনশনের এই টাকা দিয়ে আট বছর পর কিভাবে তিনি ৪৬ লাখ টাকায় জমি কিনলেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হলে টাকার উৎস সম্পর্কে সত্য উদঘাটন হবে বলে অনেকে মনে করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *