Contact us :

+8801911702463

E-mail :

dusos.tv@gmail.com

উত্তরায় ৭ নম্বর সেক্টর সংলগ্ন মহাসড়কের পাশে রাজউকের বেদখল প্লটে অবৈধ মার্কেট।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টর সংলগ্ন মহাসড়কের পাশে রাজউকের অবরাদ্দকৃত দুইটি বাণিজ্যিক প্লট অবৈধভাবে দখল করে মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছে। ৬৬টি দোকান নির্মাণ করে সেখান থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৩০ লাখ টাকা ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে গোলাম ফারুক নামে এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে।

রাজউকের ঐ দুটি প্লটের দখলে থাকা ব্যক্তি গোলাম ফারুক সরকারি সম্পত্তিকে নিজের বলে দাবি করছেন। অথচ রাজউক বলছে, খালি দুটি প্লট তারা কাউকে বরাদ্দ দেয়নি। অবৈধভাবে সেখানে মার্কেট তোলা হয়েছে। ভূমি অফিসও বলছে, ব্যক্তিমালিকানাধীন হিসেবে দেখানো সম্পত্তির দলিলেও গরমিল আছে।

জানা যায়, ১৯৬৪ সালে এই জমি অধিগ্রহণ করে রাজউক। তখন জমির প্রকৃত মালিক জমির আলী ক্ষতিপূরণের অর্থ না পাওয়ায় রাজউকের বিরুদ্ধে ২০০১ সালে মামলা করেছেন। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় ২০১৫ সাল পর্যন্ত জমির দখলে ছিলেন জমির আলী। ২০১৭ সালে অন্য এক ব্যক্তিকে এই জমি ভাড়া দেওয়ার পরেই এর দখল নিয়েছেন গোলাম ফারুক। বর্তমানে তিনি সেখানে ‘উত্তরা নিউ মার্কেট’ নামে মার্কেট পরিচালনা করছেন।

জানা যায়, গোলাম ফারুক ভূমি অফিসের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজসে ২০১১ সালে তত্কালীন তেজগাঁও (বর্তমান ক্যান্টনমেন্ট) সার্কেলের অধীনে আরএস ২০০৭ দাগ ব্যবহার করে সিটি জরিপের ১০৫৩৭ ও ৯০১৬ দাগ নিজের নামে নামজারি করেন। অথচ ২০১০ সালেই ঐ দুটি দাগ রাজউকের নামে নামজারি হয়েছে। আরএস ২০০৭ দাগটিকে ভূমি অফিস ‘ছুট’ অর্থাৎ ভুল দাগ বলে জানিয়েছেন। যার কোনো অস্তিত্ব নেই।

অন্যদিকে ফারুকের দাবিকৃত সিএস, এসএ ৯৪৭ দাগের ৫৯ শতাংশের পুরোটাই সরকার ১৯৬৪ সালে অধিগ্রহণ করেছেন। ২০০৩ সালে এর প্রজ্ঞাপন জারি করে। তার আরেকটি সিএস, এসএ ৯৫৭ দাগের ৫৮ শতাংশের মধ্যে ৩ শতাংশ জমি সরকার অধিগ্রহণ করে। ঐ দাগের বাকি জমি ভূমি অফিসের পেন্টাগ্রাফ নকশা অনুযায়ী এখন মহাসড়কের মধ্যে। বিষয়টি বুঝতে পেরে ২০১২ সালে ফারুক আবার তার দলিল সংশোধন করেন। দাগ পাল্টে ২০০৭ এর স্থলে ২০০১ ব্যবহার করেন। অথচ দাগটি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নামে খতিয়ানভুক্ত। ভূমি অফিসের বিভিন্ন নথি থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

এ বিষয়ে রাজউকের উত্তরা আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপপরিচালক (এস্টেট ও ভূমি) মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, প্লট দুটি রাজউকের সম্পত্তি। আমরা কাউকে এটি বরাদ্দ দেইনি। তবে এটি একটি অসাধু চক্র দখল করে রেখেছে বলে আমরা জেনেছি। একটি মামলায় আদালতের স্থগিত আদেশ থাকায় আমরা উচ্ছেদে যেতে পারছি না। ক্যান্টনমেন্ট রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রিফাত ফেরদৌস বলেন, সরকারি স্বার্থ জড়িত থাকায় গোলাম ফারুকের নামে করা নামজারি আমরা বাতিল করেছি। কারণ তার ২০০১ দাগটি পূর্ত ও নগর বিভাগের নামে রেকর্ডভুক্ত। সরকারি জমি দখলের বিষয়ে গোলাম ফারুক বলেন, আমি ক্রয়সূত্রে এই জমির মালিক। বহু আগে থেকে আমি এখানে দখলে আছি। আদালতে এই জমি নিয়ে মামলা রয়েছে। এটি এখন আদালতের বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *