November 25, 2020

অবৈধ মোবাইল ফোন বন্ধের প্রযুক্তিগত সমাধান পেতে বিটিআরসি ‘র সঙ্গে সিনেসিস আইটি নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দেশে অবৈধ মোবাইল ফোন বন্ধের প্রযুক্তিগত সমাধান পেতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) সিনেসিস আইটি নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে। আজ বুধবার ঢাকার রমনায় বিটিআরসির কার্যালয়ে এ চুক্তি সই হয়।

সিনেসিস আইটি জানিয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী ৯ জুনের মধ্যে তাদের অবৈধ মুঠোফোন বন্ধের প্রযুক্তিগত সমাধান তৈরি করার কথা। তবে তারা আগামী মার্চের মধ্যেই করার জন্য কাজ করছে। সিনেসিসের সঙ্গে এ প্রকল্পে কাজ করবে রেডিসন টেকনোলজিস ও কম্পিউটার ওয়ার্ল্ড বিডি নামের দুই প্রতিষ্ঠান।

মুঠোফোন বৈধ না অবৈধ, তা যাচাই করতে ন্যাশনাল ইক্যুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্ট্রার (এনইআইআর) নামের এই ব্যবস্থা চালু ও পরিচালনার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয় গত ফেব্রুয়ারিতে। নকল মুঠোফোন, অবৈধ আমদানি, চুরি ও রাজস্ব ক্ষতি রোধে এনইআইআর ব্যবস্থা চালু করছে বিটিআরসি। এর মাধ্যমে দেশে বৈধভাবে আমদানি ও উৎপাদিত মুঠোফোনের তথ্যভান্ডারের সঙ্গে মোবাইল নেটওয়ার্কে চালু হওয়া ফোনের আইএমইআই (মুঠোফোন শনাক্তকরণ নম্বর) মিলিয়ে দেখা হবে।

অবৈধ, চুরি যাওয়া ও নকল মুঠোফোন দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে চালু করা যাবে না।

চুক্তি সইয়ের অনুষ্ঠানে বিটিআরসির চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক, কমিশনার মো. মহিউদ্দিন আহমেদ, তরঙ্গ ব্যবস্থাপনা বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম শহীদুল আলম, পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সাল, উপপরিচালক সঞ্জীব কুমার সিংহ, সিনেসিস আইটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহরাব আহমেদ চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বিটিআরসি অবৈধ মুঠোফোন বন্ধের বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেয়। পাঠকের জন্য সেই প্রশ্ন ও উত্তর—

১. বিটিআরসির তথ্যভান্ডারে এখন পর্যন্ত কতগুলো আইএমইআই নম্বর সংযোজন করা হয়েছে?

উত্তর: গত ১০ নভেম্বর পর্যন্ত ১৩ কোটি ৫২ লাখ ৯৯ হাজার ৩টি আইএমইআই নম্বর সংযোজন করা হয়েছে। মোবাইল ফোন আমদানিকারক ও প্রস্তুতকারকেরা বিটিআরসি থেকে সংশ্লিষ্ট ব্র্যান্ড এবং মডেলের আমদানি ও বাজারজাতকরণের অনাপত্তিপত্র পাওয়ার পর তা তাঁদের স্ব–স্ব ব্যবস্থায় স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে তথ্যভান্ডারে সংযোজন করে থাকেন।

২. মুঠোফোনে খুদেবার্তার (এসএমএস) মাধ্যমে অনেক সময় আইএমইআই সংশ্লিষ্ট তথ্য পাওয়া যায় না, এ বিষয়ে করণীয় কী?

উত্তর: যেসব মুঠোফোন অবৈধভাবে আমদানি করা হয়েছে এবং যেগুলোর আইএমইআই নম্বর বিটিআরসির তালিকাভুক্ত আমদানিকারক ও প্রস্তুতকারক সংযোজন করেননি, সেগুলোর আইএমইআই নম্বর এই তথ্যভান্ডার থেকে পাওয়া সম্ভব নয়। এ ছাড়া ২০১৯ সালের ১ আগস্ট তথ্যভান্ডার চালু হয়। এর আগের মুঠোফোনের আইএমইআই নম্বর তথ্যভান্ডারে নেই।

৩. এনইআইআর সিস্টেমটি কীভাবে পরিচালিত হবে? অর্থাৎ, গ্রাহক কীভাবে এতে সম্পৃক্ত থাকবেন?

উত্তর: এনইআইআর সিস্টেমটি সরাসরি প্রত্যেক মোবাইল অপারেটরের স্ব–স্ব ইআইআরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। গ্রাহকদের মুঠোফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে মোবাইল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে নিবন্ধিত হয়ে ব্যবহারের উপযোগী হবে। এনইআইআর সব মুঠোফোনের বৈধতা যাচাইয়ের মাধ্যমে বৈধ না অবৈধ, তা তাৎক্ষণিক চিহ্নিত করবে। ফোন কেনার পর সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট লাগতে পারে।

৪. বাজারে আগে যে মুঠোফোন রয়েছে বা সাধারণ গ্রাহক যে সেটগুলো ব্যবহার করছেন, এনইআইআর সিস্টেম চালু হলে সেগুলোর ভবিষ্যৎ কী হবে?

উত্তর: ২০১৯ সালের ১ আগস্টের আগে মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত এবং ওই সময়ের পরে বৈধ পথে আমদানি অথবা দেশে উৎপাদিত মুঠোফোনের তথ্য বিটিআরসির কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। এর বাইরে কোনো অবৈধ মুঠোফোন থাকলে সে বিষয়ে কমিশন পরে সিদ্ধান্ত নেবে।

৫. বিদেশ থেকে ব্যক্তিগতভাবে নিয়ে আসা, কারও উপহার বা অনলাইনে কেনা মুঠোফোনের ক্ষেত্রে কী হবে?

উত্তর: এনইআইআর ওয়েবসাইটের মাধ্যমে গ্রাহকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মুঠোফোন কেনার রসিদ যাচাই করে নিবন্ধন দেওয়া হবে। বিদেশ থেকে উপহার পাওয়ার ক্ষেত্রে যথেষ্ট প্রমাণ দেখাতে হবে। একই ব্যক্তি বারবার উপহার দিচ্ছেন, তা দেখানো যাবে না।

৬. দেশে এখন ব্যবহৃত হওয়া একই আইএমইআই নম্বরের নকল মুঠোফোনের ক্ষেত্রে কী হবে?

উত্তর: এসব ফোন তালিকা করে তাদের একটি নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হবে। পরে তা বন্ধ করে দেওয়ার চিন্তা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *