June 26, 2020

ইউপি চেয়ারম্যাননের বিরুদ্ধে রাস্তার ইট বিক্রির অভিযোগ।

নরসিংদীর রায়পুরায় মির্জাচর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান জাফর ইকবাল মানিক ও ব্যবসায়ী আব্দুল জব্বারের বিরুদ্ধে রাস্তার ইট বিক্রি, রাস্তা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ, বিদ্যুৎ সংযোগের কাজে বাধা প্রদানের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গত ২২ জুন রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ করেন সাবেক ইউপি সদস্য ফারুকুল ইসলাম ফারুক।

ফারুকুর ইসলাম বলেন, মির্জাচর বাজার রাস্তার (শাহ আলমের বাড়ি হইতে হিরণ মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত) প্রায় ৫/৬ হাজার ইট তুলে বিক্রি করে দিয়েছেন চেয়ারম্যান মানিক ও প্রভাবশালী জব্বার। ওই ইট কিনে নেন একই ইউনিয়নের পূর্বপাড়া গ্রামের তাজুল ইসলাম ও প্রবাসী হাছান মিয়ার স্ত্রী। আব্দুল জব্বারের বিরুদ্ধে মির্জাচর বাজার সংলগ্ন রাস্তা দখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। ওই স্থাপনার ওপর দিয়ে বিদ্যুতের লাইন নেওয়াতে বিদ্যুৎ সংযোগে বাধা প্রদানের মতো অভিযোগ রয়েছে। এতে করে ওই ইউনিয়নের ৫ ও ৬নম্বর ওয়ার্ড দুটির ৩৫০ পরিবার বিদ্যুৎ সেবা থেকে বঞ্চিত।

ফারুকুল ইসলাম আরো বলেন, চেয়ারম্যান মানিক ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে এলজিএসপি-৩ প্রকল্পের বরাদ্দকৃত দুই লাখ টাকার কাজ নামমাত্র করে বাকি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। চেয়ারম্যানের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার মেলেনি। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

সরেজমিনে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে তাজুল ইসলামের বাড়িতে গেলে তার দেখা মেলেনি। তার স্ত্রী বলেন, চেয়ারম্যান মানিক ও জব্বারের কাছ থেকে আমার স্বামী রাস্তার এক হাজার ইট ছয় হাজার টাকায় কিনেছে। আশেপাশের অনেকই তাদের কাছ থেকে রাস্তার ইট কিনেছে। আমরা এত কিছু বুঝি না। টাকা দিয়ে চেয়ারম্যানের কাছ থেকে ইট কিনছি।

মির্জাচর ইউপি চেয়ারম্যান জাফর ইকবাল মানিক বলেন, রাস্তার ইট বিক্রি করার কোন সুযোগ নেই। ইট বিক্রির অভিযোগ ভিত্তিহীন। এ রকম কোন প্রমাণ কেউ দেখাতে পারবে না। তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিপাত ও ভারি যানবাহ চলাচলের ফলে রাস্তার কিছু অংশ ভেঙে যায়। পরে লোক দিয়ে ভাঙা স্থানের ইটগুলো অন্যত্র সরিয়ে রাখা হয়েছে। রাস্তার আশেপাশের বাড়ির লোকজন সেখান থেকে অনেক ইট চুরি করে নিয়ে গেছেন। চুরি হওয়া ইট উদ্ধারে গ্রাম পুলিশ পাঠাব।

চেয়ারম্যান মানিক বলেন, বিদ্যুতের ব্যাপারে প্রথমে আমি বাধা দিয়েছি। কারণ ইউনিয়ন পরিষদের সামনে একটি বিদ্যুতের খুঁটি বসানো হয়েছে। নতুন ভবণ নিমার্ণের সময় এটা প্রতিবন্ধকতা দৃষ্টি করতে পারে। খুঁটি অন্যস্থানে সরিয়ে ওয়ার্ড দুটিতে বিদ্যুৎ লাইন চালু করার জন্য রায়পুরা জোনাল অফিসের ডিজিএম কাছে আবেদন করেছি।

রাস্তা দখল করে আব্দুল জব্বারের দোকান নির্মাণের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আমার কাছে কেউ অভিযোগ দেয়নি। বর্তমানে রাস্তাটি প্রস্থের ছয় ফুট। সামনে আরো আট ফুট বৃদ্ধি করে মোট চৌদ্দ ফুট করা হবে।

রায়পুরা জোনাল অফিসের ডিজিএম সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বাধার কারণেই নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া যাচ্ছে না। এ বিষয়ে মির্জাচর ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, সেখানে লোক পাঠানো হয়েছে। সম্ভব হলে খুঁটি সরানো হবে। আশা করছি কয়েক দিনের মধ্যে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করা যাবে।

রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে রাস্তার ইট বিক্রির অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্ত রিপোর্ট আসার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় এক ব্যক্তির বাধায় ৩৫০ পরিবার বিদ্যুৎ বঞ্চিত এ বিষয়ে কোন অভিযোগ পাননি বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *