November 3, 2019

কক্সবাজারে বাড়ছে র্দুঘটনা টমটম গ্যারেজের মালিকরা বেপরোয়া !

কক্সবাজারে অবৈধ টমটম

এইচএম আমান কক্সবাজার থেকে : কক্সবাজারের ঝাউতলায় দীর্ঘদিন যাবৎ চলে আসছে বিদ্যুৎ নিয়ে লুকোচুরি খেলা। বিদ্যুৎ বিভাগকে ফাঁকি দিয়ে অবৈধ টমটমের গ্যারেজে ভরে উঠেছে পুরো গাড়ীর মাঠ এলাকা। তাই জমে উঠেছে অবৈধ টমটমের ব্যবসা। এনিয়ে উক্ত এলাকায় প্রতিনিয়ত ঘটে আসছে নানা র্দুঘটনা। আর পুলিশের জালে বন্দি হচ্ছে শতশত টমটম তবে আইনের ফাঁকে বের হয়ে ফের সড়কে চলাচল করছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজরধারি অভাবে অবৈধ টমটম গ্যারেজ মালিকেরা এখন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

সূত্রে জানাগেছে, ১ নভেম্বর বিকালে শহরের ঝাউতলা মসজিদ রোড়ে জনৈক আজিজ সওদাগরের টমটম গ্যারেজে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়ে রবিউল আলম নামের এক চালক গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শুধু তাই নয়, ছোট একটি ঝুঁপুড়ি গ্যারেজে অবৈধভাবে শতাধিক টমটম নিয়ে গড়ে তুলেছে মাদকের হাট। তিনি টমটম মালিকের কাছ থেকে দৈনিক প্রতি টমটমের চার্জ বিল হিসেবে ২৫০ টাকা করে নিচ্ছেন। নানা সুবিধায় তিনি দিনদিন বৃদ্ধি করে আসছেন অবৈধ টমটমের সংখ্যা। অন্যদিকে ওই গ্যারেজে বেড়ে যাচ্ছে অবৈধ টমটমের সংখ্যা।

সূত্র আরও জানায়, ঝাউতলা মসজিদ রোড়টি তিনি সন্ধ্যা হলে টমটম ওয়াশ করার জন্য দখলে নেন। পুরো সড়কটি জলমগ্ন হয়ে জনচলাচলে বাঁধা সৃষ্টি হয়ে পড়ে। তিনি অতি প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয়রা তার অপকর্মের ব্যাপারে কেউ মুখ খুলতে চান না। উক্ত সড়কটি প্রধান সড়কের ভিতরে হলেও পর্যটকসহ স্থানীয় জনচলাচল বেশি হওয়ায় বিষয়টি এখন সবার নজরে এসেছে। এদিকে গ্যারেজটি বন্ধ করে এলাকার শান্তি শৃংখলা ও জনচলাচলের সড়কটি আজিজ সওদাগর হতে উদ্ধার করে স্বাভাবিকভাবে ফিরে আনতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জোরদাবী জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সজিব সুজন জানিয়েছেন, তিনি লোভে পড়ে জনবহুল সড়কের পাশে ছোট একটি জায়গাতে কিভাবে শতাধিক টমটম রাখে এটা আমার প্রশ্ন জাগে। বিদ্যুৎ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বিষয়টি আমলে নিলে হয়তো থলের বিড়াল বের হতে পারে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ওই গ্যারেজে সন্ধ্যা হলে গাঁজা আর জুয়ার আসর বসে, এটা বন্ধ করে দেয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, ওই গ্যারেজের মালিক অতি লোভী হওয়ায় প্রতিনিয়ত ঘটে আসছে নানা র্দুঘটনাও। সুতরাং সব কিছু বিবেচনা করলে তিনি অপরাধী তাই তাকে আইনের আওতায় আনা জরুরী বলে তিনি মনে করেন।

গাড়ীর মাঠের সালাম জানান, র‌্যাবের বন্দুক যুদ্ধে নিহত ইয়াবা ডন মাসুমের গ্যারেজ নামে পরিচিত ওই গ্যারেজটি। তিনি বলেন, নিহত মাসুমের ২০টি টমটম ওই গ্যারেজে রয়েছে। তাই গ্যারেজটিতে এখনও ইয়াবা’র গন্ধ রয়ে গেছে। মাসুমের সহযোগি বদু নামের এক লোক ওই টমটমগুলো দেখভাল করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শহরের ঝাউতলা মসজিদ সড়কটি রিক্সা আর টমটমের কারনে প্রায় সময় জন চলাচলে অযোগ্য হয়ে পড়ে। যেনো দেখার কেউ নেই! এই সড়কে আরও একটি বিশাল রিকসার গ্যারেজ রয়েছে। সেখানে প্রথমে রোহিঙ্গা অবস্থান করে পরে রিকসা চালানোর জন্য রাস্তায় বের হয়ে পড়ে। ওই গ্যারেজের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। সম্প্রতি পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই গ্যারেজ থেকে একাধিক লোককে নানা অপরাধে আটক করেন। তবে সবচেয়ে ক্ষতিকর হয়ে পড়েছে আজিজ সওদাগরের গ্যারেজটি।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানাগেছে, শহরের গাড়ীর মাঠের ১নং গলিতে রয়েছে একটি বিশাল অবৈধ টমটম গ্যারেজ। ওই গ্যারেজেও রয়েছে শতাধিক অবৈধ টমটম। সম্প্রতি কক্সবাজার পৌরসভা ওই গ্যারেজে অভিযান চালিয়ে ৫টি ভূয়া প্লেট সংযুক্ত টমটম জব্দ করেছিলেন। পরে মুচলেখা ও জরিমানা দিয়ে মুক্ত হন ওই গ্যারেজের মালিক জরিপ আলী। তার গ্যারেজের বিরুদ্ধেও অভিযোগের শেষ নেই। তিনি কৌশল পাল্টিয়ে ভূয়া নাম্বার প্লেট ব্যবহার করে এ অবৈধ টমটমগুলো চালিয়ে আসছে।

স্থানীয় সমাজ কমিটি জানিয়েছে, পুরো গাড়ীর মাঠে অবৈধ টমটমে ভরে গেছে। যেদিকে পারে সেদিকে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে টমটমের চার্জ ব্যবসা ইতোমধ্যে জমজমাট হয়ে উঠেছে। তাই এটা যেকোনো সময় বড় ধরনের র্দুঘটনা সৃষ্টি হতে পারে। বর্তমানে ঝাউতলা গাড়ীর মাঠে চলাচলের সব সড়কই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী সাগর দাশ জানিয়েছেন, কয়েক মাস আগে বিদ্যুৎ বিভাগ অভিযান চালিয়ে একাধিক অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগে মোটা দাগে জরিমানা আদায় করে ছিলেন। তার মধ্যে অন্যতম ছিলেন আরেক গ্যারেজের মালিক মনজুর আলম। তারও রয়েছেন অবৈধ প্রায় ১৫ টি টমটম। তার বিরুদ্ধেও অভিযোগের ইতি নেই। এভাবে পুরো গাড়ীর মাঠ এলাকা দখলে আছে অবৈধ টমটম মালিকদের হাতে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন যদি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতেন তাহলে সরকারে রাজস্ব আরও বেশি আদায় করা সম্ভব হতো।

এনিয়ে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর নুর মোহাম্মদ মাঝু জানান, বিষয়টি পৌর প্রশাসন অবগত আছেন। অতি দ্রুত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে। তিনি আরও বলেন, অপরাধ করে কেউ পার পাবে না। এ বিষয়ে কক্সবাজার বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ওসমান গনি বলেন, অভিযোগগুলো তদন্তপূর্বক অবশ্যই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *