November 3, 2019

যাত্রা শুরু হলো স্মার্ট আর্মস লাইসেন্স কার্ডের।

দুসস ডেস্কঃ মালিকের নাম-ঠিকানা, বায়োমেট্রিকে আঙুলের ছাপসহ আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়নে ১৪ প্রকার তথ্যের মাধ্যমে চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো তৈরি করা হয়েছে স্মার্ট আর্মস লাইসেন্স কার্ড। এর মাধ্যমে চট্টগ্রামের সব বৈধ অস্ত্রের মালিক স্মার্ট আর্মস লাইসেন্স কার্ড পাবেন। ঘরে বসেই নিজ নিজ পোর্টাল ব্যবহার করে অনলাইনের মাধ্যমে লাইসেন্সের আবেদন, ফি জমাদান এবং তথ্য ও ডকুমেন্ট শেয়ারিং করতে পারবেন সেবাপ্রার্থীরা। এর মাধ্যমে চট্টগ্রামের হাত ধরে দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু হলো স্মার্ট আর্মস লাইসেন্স কার্ডের। এতে যে কেউ সহজে ও কম সময়ে আর্মস লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়ন করতে পারবেন।

নতুন এই স্মার্টকার্ডের মাধ্যমে ভুয়া লাইসেন্সে আগ্নেয়াস্ত্র রাখার দিন আর থাকছে না। কেননা, নির্দিষ্ট মেয়াদের পর কেউ লাইসেন্স কার্ড নবায়ন না করলে ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে লাইসেন্স কার্ডটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। কেউ চাইলে নকল কোনো স্মার্টকার্ডও তৈরি করতে পারবে না। এতে বন্ধ হবে লাইসেন্স ছাড়া আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার। বৈধ লাইসেন্স নিতে বাধ্য করার কারণে বাড়ছে রাজস্ব আয়ও। নতুন এই সিস্টেমটি অপরাধ দমন, রাষ্ট্রীয় ও জননিরাপত্তা বিধান এবং সামাজিক শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোঃ ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘চট্টগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশে প্রথমবারের মতো আগ্নেয়াস্ত্রের স্মার্টকার্ড তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়ন দ্রুত সময়ে করা সম্ভব। বায়োমেট্রিক তথ্য সংযুক্ত ১৪ ধরনের নিরাপত্তাবিশিষ্ট তথ্য সংবলিত কন্টাকলেস স্মার্ট লাইসেন্স কার্ড প্রদান কার্যক্রমটি ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে একটি মাইলফলক। এতে ভুয়া লাইসেন্স প্রদান বন্ধ হবে। সেই সঙ্গে বৈধ লাইসেন্স নিতে বাধ্য হওয়ার কারণে বাড়বে রাজস্ব আয়ও। এর মাধ্যমে এখন থেকে বৈধ লাইসেন্স ছাড়া আগ্নেয়াস্ত্রও রাখা যাবে না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সিস্টেমটি মনিটরিং করছে। অপরাধ দমন, রাষ্ট্রীয় ও জননিরাপত্তা বিধান এবং সামাজিক শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় অনেক বড় ভূমিকা রাখবে এটি। পর্যায়ক্রমে এটি সারাদেশে চালু করা হচ্ছে।’

সংশ্লিষ্টরা জানান, স্পেকট্রাম আইটি সলিউশনের কারিগরি সহায়তায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নিজস্ব অর্থায়নে আগ্নেয়াস্ত্র মালিকদের জন্য এ স্মার্ট লাইসেন্স কার্ড তৈরি করা হয়েছে। যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘স্মার্ট লাইসেন্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম।’ এতে প্রত্যেক গ্রাহকের একটি অনলাইন পোর্টাল রাখা হয়েছে। কেউ যাতে লাইসেন্স নকল করতে না পারে সে জন্য অনিয়ম প্রতিরোধ করতে স্মার্টকার্ড লাইসেন্সটিতে ১৪ ধরনের নিরাপত্তা বিষয় সংযুক্ত করা হয়েছে। লাইসেন্সের বিভিন্ন তথ্য তাৎক্ষণিক যাচাই করার জন্য একটি মোবাইল অ্যাপস ও একটি বিশেষায়িত ডিভাইস ব্যবহার করা হয়েছে। যার মাধ্যমে লাইসেন্স গ্রহীতার এনআইডি নম্বর, লাইসেন্স নম্বর, আঙুলের ছাপসহ সাত ধরনের তথ্য ব্যবহার করে তাৎক্ষণিক যাচাই-বাছাই করা যায়। কখনও কোনো লাইসেন্সধারীর স্মার্টকার্ড বিষয়ে সন্দেহ হলে শুধু তার ফিংগারপ্রিন্ট অথেনটিকেশানের মাধ্যমে লাইসেন্সের সঠিকতা যাচাই করা যাবে। স্মার্টফোনের মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে যে কোনো সময় যে কোনো স্থানে লাইসেন্সের বৈধতা যাচাই করা সম্ভব হবে। চট্টগ্রামের সব অস্ত্রের মালিককে নতুন এই সিস্টেমের আওতায় আনার কাজ চলমান।

জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (আগ্নেয়াস্ত্র শাখা) তাহমিনা আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, স্মার্ট আর্মস লাইসেন্স কার্ড চালু হওয়ার পর থেকে অনেকে আমাদের কাছে আবেদন করেছেন। ইতিমধ্যে প্রায় আড়াই হাজার আর্মস লাইসেন্স এই ডিজিটাল প্রযুক্তির আওতায় আনা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সবাইকে এই স্মার্টকার্ডের আওতায় আনা হবে। যারা এখনও আবেদন করেননি, তাদের দ্রুত সময়ের মধ্যে আবেদন করতে বলা হয়েছে। এ সংক্রান্ত যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন এ প্রযুক্তির মাধ্যমে ভুয়া আর্মস লাইসেন্স বানানোর কোনো সুযোগ নেই। তা ছাড়া বৈধ লাইসেন্স ছাড়া আগ্নেয়াস্ত্র রাখাও যাবে না। এর ফলে ভোগান্তি কমে যাওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে রাজস্বও। সেবা গ্রহীতারাও এটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

স্মার্ট লাইসেন্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে আগ্নেয়াস্ত্রসহ সব রকম লাইসেন্সের তথ্য এক ঠিকানাতেই পাওয়া যাবে। চট্টগ্রামের ২৪ জন বিশিষ্ট নাগরিকের হাতে প্রথমবারের মতো তৈরি করা এ কার্ড তুলে দেওয়া হয়েছে। আবেদনের পর কার্ডের যাবতীয় ধরনের তথ্য জেলা প্রশাসনের নিজস্ব পোর্টালে সংরক্ষিত থাকবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *