September 25, 2020

মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা ওসিকে আড়াই মাসের মধ্যেই স্ট্যান্ড রিলিজ!

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থানার ওসি-কে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। জানা গেছে, থানায় যোগ দিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। যোগদানের মাত্র আড়াই মাসের মধ্যে কর্মস্থল ছাড়তে হলো তাকে।

এদিকে, ওসি প্রভাষ চন্দ্র ধরের আকস্মিক বদলির অর্ডার (স্ট্যান্ড রিলিজ) আসায় এ নিয়ে স্থানীয় জনমনে আলোচনার ঝড় বইছে। বদলি হওয়া ওসি প্রভাষ ধরকে আজ শুক্রবারের (২৫ সেপ্টেম্বর) মধ্যে তার নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গত পরশু বুধবার ওই বদলির আদেশে স্বাক্ষর করেন পুলিশ হেড কোয়ার্টারের এআইজি (পার্সোনাল ম্যানেজমেন্ট-২) মোহাম্মদ আবদুল্লাহীল বাকী।

জানা গেছে, করোনাকালে নবীনগর উপজেলার সার্বিক আইন শৃংখলার অবনতির পরিপ্রেক্ষিতে গত ৫ জুলাই নবীনগর থানায় যোগ দেন ওসি প্রভাষ চন্দ্র ধর। এর আগে তিনি কক্সবাজারের মহেশখালি থানায় ওসি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, নবীনগর থানায় যোগ দিয়েই তিনি মাদক ও থানার চিহ্নিত দালালদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। ওসির কক্ষে মামলা সংক্রান্ত লোকজন ছাড়া অন্যদের প্রবেশ নিষেধ করে দেন।

সূত্র জানায়, যোগদানের কিছুদিনের মধ্যেই তিনি স্থানীয় চিহ্নিত কিছু প্রভাবশালীর মাদকের আস্তানা গুঁড়িয়ে দেয়াসহ থানায় চিহ্নিত দালালদের আনাগোনা বন্ধ করে দেন। অনেকেই জানান, মাদকবিরোধী অভিযানের সময় গ্রেপ্তারকৃতদের বিষয়ে ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতাদের তদবীরও তিনি আমলে নেননি। এতে শুরুতেই মাদক ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালীদের রোষানলে পড়েন নবাগত ওসি।

সূত্র আরো জানায়, বিভিন্ন স্পর্শকাতর মামলায় আসামির নাম দেয়া ও বাদ দেয়া নিয়েও শীর্ষ পর্যায়ের কারও কারও সাথে ওসির মতানৈক্য দেখা দেয়। এসব নানা ঘটনায় ওসির সঙ্গে স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রভাবশালী অনেকেরই বৈরী সম্পর্ক তৈরি হয়।

এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার দিনভর ওসি প্রভাষ ধরকে ‘স্ট্যান্ড রিলিজ’ করা হয়েছে বলে এলাকায় ব্যাপকভাবে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও রীতিমত ভাইরাল হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, যোগদানের পর এত অল্পদিনের মধ্যে এমন আকস্মিক বদলি, সৎ ও দক্ষ অফিসারদের মধ্যে কিছুটা হলেও ক্ষোভ ও হতাশা কাজ করবে।

এ বিষয়ে একাধিকবার কল করেও ওসি প্রভাষ ধরের সঙ্গে কথা বলা যায়নি। তবে নবীনগর সার্কেলের দায়িত্বে থাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মকবুল হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, বদলি একটি স্বাভাবিক ঘটনা। সরকারের আদেশে ওসি বদলি হয়েছেন। আবার নতুন ওসি যোগদান করবেন। এটি রুটিন ওয়ার্ক, এটুকুই জানি।

তবে ২৩ সেপ্টেম্বর বদলির অর্ডার হওয়া প্রজ্ঞাপনে মাত্র দুদিনের মধ্যে ২৫ সেপ্টেম্বর তাকে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানান এই উর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *