May 7, 2019

পবিত্র রমজান সম্পর্কে পবিত্র কুরআন কি বলে ? আগে পরিপূর্ণভাবে জানুন এরপরে মানুন।

পবিত্র রমজান মাস সমগ্র মানবজাতির জন্য একটি পবিত্রতম এবং আত্ম সংযমের মাস। সুতরাং পবিত্রতম এ মাস সম্পর্কে পুরোপুরি জেনে এবং বুঝে পালনকরা সকল মানুষের নৈতিক কর্তব্য। যেখানে এ মাসে প্রতিটি মানুষের মধ্যে সকল কাজে, কর্মে, চলনে, বলনে সংযম হওয়া বাঞ্চনীয়। সেখানে ধর্মান্ধতা এবং বাণিজ্যিক ধর্ম ব্যবসায়ী কাঠমোল্লারা এ মাসটি নিয়ে যেভাবে বাণিজ্যিক ভাবে কার্যক্রম করে যাচ্ছে তাতেকরে এ পবিত্র মাসটির পবিত্রতা হারাচ্ছে। আত্ম সংযমের পরিবর্তে আমাদের এ দেশের প্রতিটি মানুষের মধ্যে আত্ম বাণিজ্যিক লভ্যাংশ সর্বাধিক বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। ফলে সাধারণ ধর্মভীরু মানুষ অর্থ সম্পদ ব্যায় করেও এ মাসের প্রকৃত রহমত এবং বরকত হতে বঞ্চিত হচ্ছে। আর কমার্শিয়াল কাঠ মোল্লারা তাদের পকেট ভারী করে রহমতের এবং বরকতের লাভ গুনছে ! আসুন জেনে নেই পবিত্রতম এ মাসটি সম্পর্কে মহান আল্লাহ পবিত্র আল কুরআনে কি বলেন।
সূরা আল বাকারায় মহান আল্লাহ বলেন।
সূরা আল বাকারাহ
আয়াত নং ১৮৩
হে ঈমানদারগণ, তোমাদের উপর রোজা ফরয করা হয়েছে, যেরূপ ফরজ
করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপর, যেন তোমরা আল্লাহ ভীতি অর্জন করতে পার।
আয়াত নং ১৮৪
গণনার কয়েকটি দিনের জন্য অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে, অসুখ থাকবে অথবা সফরে থাকবে, তার পক্ষে অন্য সময়ে সে রোজা পূরণ করে নিতে হবে। আর এটি যাদের জন্য অত্যন্ত কষ্ট দায়ক হয়, তারা এর পরিবর্তে একজন মিসকীনকে খাদ্যদান করবে। যে ব্যক্তি খুশীর সাথে সৎকর্ম করে, তা তার জন্য কল্যাণ কর হয়। আর যদি রোজা রাখ, তবে তোমাদের জন্যে বিশেষ কল্যাণকর, যদি তোমরা তা বুঝতে পার।
আয়াত নং ১৮৫
রমযান মাসই হল সে মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে কোরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্যপথ যাত্রীদের জন্য সুষ্পষ্ট পথ নির্দেশ আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে লোক এ মাসটি পাবে, সে এ মাসের রোযা রাখবে। আর যে লোক অসুস্থ কিংবা মুসাফির অবস্থায় থাকবে সে অন্য দিনে গণনা পূরণ করবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান; তোমাদের জন্য জটিলতা কামনা করেন না যাতে তোমরা গণনা পূরণ কর এবং তোমাদের হেদায়েত দান করার দরুন আল্লাহ তা’আলার মহত্ত্ব বর্ণনা কর, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর।
আয়াত নং ১৮৬
আর আমার বান্দারা যখন তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে আমার ব্যাপারে বস্তুতঃ আমি রয়েছি সন্নিকটে। যারা প্রার্থনা করে, তাদের প্রার্থনা কবুল করে নেই, যখন আমার কাছে প্রার্থনা করে। কাজেই আমার হুকুম মান্য করা এবং আমার প্রতি নিঃসংশয়ে বিশ্বাস করা তাদের একান্ত কর্তব্য। যাতে তারা সৎপথে আসতে পারে।
আয়াত নং ১৮৭
রোযার রাতে তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস করা তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে। তারা তোমাদের পরিচ্ছদ এবং তোমরা তাদের পরিচ্ছদ। আল্লাহ অবগত রয়েছেন যে, তোমরা আত্নপ্রতারণা করছিলে, সুতরাং তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করেছেন এবং তোমাদের অব্যাহতি দিয়েছেন। অতঃপর তোমরা নিজেদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস কর এবং যা কিছু তোমাদের জন্য আল্লাহ দান করেছেন, তা আহরন কর। আর পানাহার কর যতক্ষণ না কাল রেখা থেকে ভোরের শুভ্র রেখা পরিষ্কার দেখা যায়। অতঃপর রোযা পূর্ণ কর রাত পর্যন্ত। আর যতক্ষণ তোমরা এতেকাফ অবস্থায় মসজিদে অবস্থান কর, ততক্ষণ পর্যন্ত স্ত্রীদের সাথে মিশো না। এই হলো আল্লাহ কর্তৃক বেঁধে দেয়া সীমানা। অতএব, এর কাছেও যেও না। এমনিভাবে বর্ণনা করেন আল্লাহ নিজের আয়াত সমূহ মানুষের জন্য, যাতে তারা বাঁচতে পারে।

সুফী মোহাম্মদ আহসান হাবীব
অতীন্দ্রিয় গবেষক ও লেখক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *